Showing posts with label তামাক. Show all posts
Showing posts with label তামাক. Show all posts

Wednesday, 19 March 2014

বিধিমালা প্রণয়ণে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ: আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তির লঙ্ঘন

বিধিমালা প্রণয়ণে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ: 
আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তির লঙ্ঘন

Add caption


তামাক কোম্পানিগুলো বিদ্যমান আইন লঙ্ঘণ করে এবং আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কাযর্ক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ অপচেষ্টা সম্পর্কে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।  তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা প্রণয়নে বিলম্ব, নীতিনিধারণী পর্যায়ে বিধিমালা বিষয়ে বিভ্রান্ত প্রচারণা, কোম্পানির আইনভঙ্গ করে বিজ্ঞাপনসহ নানা কাযর্ক্রমের বিষয়ে পর্যবেক্ষনের পরবর্তীতে তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা এই উৎকন্ঠা প্রকাশ করেন। আজ সকালে রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া সম্প্রতিক সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ে তামাক কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা বিষয়ক সভার বিষয়েও উৎকন্ঠা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিদ আবু নাসের খান, ইপসার প্রধান নির্বাহী মো: আরিফুর রহমান, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাইদ রানা, নাটাব এর প্রকল্প সমন্বয়কারী সাগুফতা সুলতানা, এইড এর উপ-কর্মসূচী সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান পলাশ এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটে’র সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম প্রমূখ।

আবু নাসের খান বলেন, গত ০৫/০৩/১৪ খ্রিঃ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১৪ -র খসড়ার তামাক কোম্পানিকে সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠিত পর্যলোচনা সভা আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি এফসিটিসি-র আর্টিকেল ৫.৩-র পরিপন্থী । নীতি প্রণয়নে তামাক কোম্পানির এ ধরনের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করবে।

আরিফুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তামাক কোম্পানিগুলো ছোট/বড় দোকানীদের আইনের ভুল ব্যাখা দিয়ে আইন লঙ্ঘনে উৎসাহী করে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে তারা সামাজিক দায়বদ্ধতার আদলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রচারণা চালাচ্ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ প্রণয়নের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞাপন বন্ধে যে অর্জন হয়েছিল তা ব্যাহত করতে কোম্পানিগুলো অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সৈয়দ মাহবুবুল বলেন, সংশোধিত আইনে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ সতর্কবানী প্রদানের বিধান রয়েছে। যা মানুষকে ধূমপান হতে বিরত থাকতে সহযোগিতা করবে। কিন্তু বিধিমালা চুড়ান্ত করার অভাবে এখনো মোড়কের গায়ে ছবিসহ স্বাস্থ্যসর্তকবানী প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। আইনে নাটক সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু দেশী ও বিদেশী নাটক-সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে।

ইবনুল সাইদ রানা বলেন, বিদ্যমান আইনে সরকারী-বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে ধূমপানমুক্ত সাইন স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইন অমান্যে ১০০০ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। কিন্তু  অনেক প্রতিষ্ঠানেই এখনো ধূমপানমুক্ত সাইন স্থাপন করা হয়নি। সাগুফতা সুলতানা বলেন, আইনের বিধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিধিমালার মাধ্যমে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরী, কর্মপরিধি নির্ধারণ ও  কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য ও দেশের সম্মান রক্ষায় বিধিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানিগুলো যাতে কোন ধরনের প্রভাব বিস্তার না করতে পারে সে বিষয় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহন এবং দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালাটি পাশের দাবি জানানো হয়। 


Tuesday, 25 February 2014

ধানমন্ডিতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ॥ জেল ও জরিমানা আদায়

ধানমন্ডিতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ॥  জেল ও জরিমানা আদায়



Add caption



তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘণ করে সিগারেটের প্রচারণার দায়ে আজ ভ্রাম্যমান আদালত ধানমন্ডির দুটি দোকানে অভিযান চালিয়ে পয়ষট্টি হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ম্যানেজারকে আটক এবং অবৈধ বিজ্ঞাপন অপসারণ করেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শওকত আলী এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে (৪নং সড়কসংলগ্ন) জারুরিয়া সুপারশপে অভিযান চালিয়ে মার্লবোরো সিগারেটের অবৈধ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২৯ এপ্রিল ২০১৩)” এর ধারা ৫ এর উপধারা ৪ অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার টাকা (৫০,০০০/=) জরিমানা করে। এ সময় জরিমানা অনাদায়ে জারুরিয়া সুপার শপ-এর ব্যবস্থাপক আটক করে ২ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। পরে সরকারী কোষাগারে জরিমানার অর্থ জমা দিলে আটককৃত ম্যানেজারকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এছাড়া ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চসংলগ্ন ডায়নামিক ফুড কর্নার-এ অভিযান চালিয়ে সিগারেটের অবৈধ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের দায়ে পনের হাজার টাকা (১৫,০০০/=) জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত এ সময় বিভিন্ন দোকানে সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের অবৈধ বিজ্ঞাপন অপসারণ করে। এ সময় ধানমন্ডি এলাকায় ব্যাপক সাড়া করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শওকত আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধানমন্ডি এলাকার পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান, ধানমন্ডি থানার এস আই শামসুল হক ও মতিউর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ঢাকা জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাবি¬উবিবি) এর ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার, সোস্যাল এডভান্সমেন্ট ফোরাম (সাফ) সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মীর আবদুর রাজ্জক উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শওকত আলী বলেন, সরকার জনস্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেছে। কিন্তু কিশোর-তরুণ প্রজন্মকে ধূমপানের নেশায় আসক্ত করার জন্য তামাক কোম্পানিগুলোর প্রলোভনে অন্যায্য মুনাফার লোভে অনেকে আইন লঙ্ঘণ করে প্রচারণা চালাচ্ছে। আইন বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাবি¬উবিবি) ট্রাস্ট এর ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভূমিকা ইতিবাচক। তামাক কোম্পানিগুলো আইন লঙ্ঘণ করে প্রচারণা চালাচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের তথ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরে প্রশাসনকে অবহিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ধানমন্ডিতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ॥
 জেল ও জরিমানা আদায়

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘণ করে সিগারেটের প্রচারণার দায়ে আজ ভ্রাম্যমান আদালত ধানমন্ডির দুটি দোকানে অভিযান চালিয়ে পয়ষট্টি হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ম্যানেজারকে আটক এবং অবৈধ বিজ্ঞাপন অপসারণ করেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শওকত আলী এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে (৪নং সড়কসংলগ্ন) জারুরিয়া সুপারশপে অভিযান চালিয়ে মার্লবোরো সিগারেটের অবৈধ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২৯ এপ্রিল ২০১৩)” এর ধারা ৫ এর উপধারা ৪ অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার টাকা (৫০,০০০/=) জরিমানা করে। এ সময় জরিমানা অনাদায়ে জারুরিয়া সুপার শপ-এর ব্যবস্থাপক আটক করে ২ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। পরে সরকারী কোষাগারে জরিমানার অর্থ জমা দিলে আটককৃত ম্যানেজারকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এছাড়া ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চসংলগ্ন ডায়নামিক ফুড কর্নার-এ অভিযান চালিয়ে সিগারেটের অবৈধ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের দায়ে পনের হাজার টাকা (১৫,০০০/=) জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত এ সময় বিভিন্ন দোকানে সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের অবৈধ বিজ্ঞাপন অপসারণ করে। এ সময় ধানমন্ডি এলাকায় ব্যাপক সাড়া করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শওকত আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধানমন্ডি এলাকার পরিদর্শক নাজমুল হোসেন খান, ধানমন্ডি থানার এস আই শামসুল হক ও মতিউর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ঢাকা জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাবি¬উবিবি) এর ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার, সোস্যাল এডভান্সমেন্ট ফোরাম (সাফ) সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মীর আবদুর রাজ্জক উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শওকত আলী বলেন, সরকার জনস্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করেছে। কিন্তু কিশোর-তরুণ প্রজন্মকে ধূমপানের নেশায় আসক্ত করার জন্য তামাক কোম্পানিগুলোর প্রলোভনে অন্যায্য মুনাফার লোভে অনেকে আইন লঙ্ঘণ করে প্রচারণা চালাচ্ছে। আইন বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাবি¬উবিবি) ট্রাস্ট এর ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভূমিকা ইতিবাচক। তামাক কোম্পানিগুলো আইন লঙ্ঘণ করে প্রচারণা চালাচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের তথ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরে প্রশাসনকে অবহিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Wednesday, 5 February 2014

তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর প্রচলন দ্রুত করতে হবে।


তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর প্রচলন দ্রুত করতে হবে।

মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপানসহ তামাক ব্যবহার। প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় ৮২ ল মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ ল মানুষ ক্যান্সারসহ তামাক ব্যবহারজনিত প্রধান ৮টি রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৫৭ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে; বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যে প্রায় ৪ হাজারেরও বেশী তিকর রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে; যার মধ্যে ৪৩ টি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত। ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী থাকা আবশ্যক। 

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা খরচ খুবই বেশী। এছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সনাক্ত না হলে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করেও রোগীকে বাচানো সম্ভব হয় না। তাই চিকিৎসা ব্যবস্থার চাইতে ক্যান্সার প্রতিরোধকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যান্সারের অন্যতম কারণ তামাক ব্যবহার। এ ল্েয তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ সতর্কবাণীর প্রচলন দ্রুত করা জরুরি ।

 ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা। এজন্য তিকর তামাক, মাদকের ব্যবহার কমাতে কার্যকর পদপে নিতে হবে। বিড়ি-সিগারেটের প্যাকেটে ছবিসহ সতর্কবাণী প্রচলন দ্রুত করা জরুরি। মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে হবে। 

ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে সব বয়সী মানুষের শারীরিক পরিশ্রম বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক। শহরের সবজায়গায় হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মানুষকে শারীরিক পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের যথাযথ পদপে গ্রহন করতে হবে। ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে মাদকসহ ক্ষতিকর কোমল পানীয়-ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড সামগ্রীর বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করতে হবে। এজন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে। এছাড়া এসব তিকর সামগ্রীর ওপর উচ্চহারে কর বাড়াতে হবে। 

 ক্যান্সার প্রতিরোধে তামাক ও মাদক ব্যবহার, ফাস্টফুড-জাঙ্কফুড-কোমল পানীয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাজা শাকসব্জি ও ফলমূল খেতে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষকে উৎসাহী করে তুলতে হবে। মানুষতে খেলাধুলা, হাঁটা ও সাইকেল চালনায় উৎসাহী করে তুলতে হবে। এজন্য খেলার মাঠ, পার্ক, ফুটপাথের পরিবেশ উন্নত ও সাইকেল লেন গড়ে তোলার প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। 

Thursday, 27 September 2012



সংসদ এলাকায় পরিবেশ ধ্বংসকারী তামাক কোম্পানির অর্থে  গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহবান
                                     

“বিদেশী তামাক কোম্পানির টাকায় গাছ লাগানো হবে সংসদ এলাকায়” শীর্ষক একটি সংবাদ গতকাল ও আজ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। জাতীয় সংসদ এলাকায় তামাক কোম্পানির বৃরোপন কর্মসূচী আয়োজনের প্রেক্ষিতে আমরা উদ্বিগ্ন। তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের নয়, পরিবেশ জন্যও ক্ষতিকর। তামাক উৎপাদন ও শুকানোর প্রক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত উজার হচ্ছে বন। বাংলাদেশে পার্বত্য এলাকায় তামাক চাষের জন্য বন উজার হওয়ার পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে ফসলী জমি ও পরিবেশ। তামাক কোম্পানিগুলো পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপ বন্ধে জনস্বার্থে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে এবং  বর্তমানে বিচারধীন রয়েছে।

তামাক কোম্পানিগুলো দেশে প্রতিবছর ১২ লক্ষ মানুষের ক্যান্সার, হৃদরোগ, যক্ষা, ডায়বেটিস, হাঁপানি, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি রোগের জন্য দায়ী। এছাড়া ৩ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব এবং ৫৭ হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্যও দায়ী এ তামাক কোম্পানিগুলো। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে গিয়ে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের প্রতিবছর ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয। যা তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত রাজস্বেরও দ্বিগুণ।

তাদের পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপকে আড়াল করতে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতিবছর বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর আয়োজন করে থাকে। সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচীর নামে এ কর্মসূচীর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো সহানুভুতি আদায়ের জন্য পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচারও করে থাকে। এ সকল কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে আড়ালে পড়ে যায় বন নিধনের কর্মকান্ড। কোম্পানিগুলো বৃক্ষরোপনের এ ইমেজ ব্যবহার করে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রক্কালে মহান জাতীয় সংসদের তামাক কোম্পানির এ ধরনের কার্যক্রম আইনের সংশোধন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) স্বাক্ষর ও র‌্যাটিফাই (অনুস্বাক্ষর) করেছে। এফসিটিসি অনুসারে তামাক কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ করা যায় না। সংসদ সচিবালয় তামাক কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় গাছের চারা গ্রহণ করলে সেটা হবে এ আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন এবং বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এতে করে ক্ষুন্ন হবে।

জাতীয় সংসদ ভবন চত্তরে পরিবেশ বান্ধব গাছ লাগানো একটি মহৎ চিন্তুা। কিন্তু এ গাছ  লাগানো কোনভাবেই পরিবেশ ধ্বংশকারী এবং রোগ ও মৃত্যু সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে হওয়া সমীচীন নয়। জাতীয় সংসদ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর  বা জলবায়ু ফান্ড কর্তৃপক্ষের নিকট এ জন্য অর্থে চাইতে পারেন। আমরা আশা করি, সংসদ এলাকায় তামাক কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় গাছ লাগানো কর্মসূচী হতে থেকে বিরত রাখতে মাননীয় স্পীকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।